জৈব সার: কৃষির ভবিষ্যৎ – পর্ব ১
ফসল — Muntasir Mahin1.ভূমিকা:
রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে জৈব সার দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। জমির উর্বরতা বাড়ানো, ফসলের পুষ্টিগুণ ঠিক রাখা, এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা — সবকিছুই সম্ভব জৈব সারের মাধ্যমে। আজকের ব্লগে আমরা জেনে নেব জৈব সার কী, কেন জরুরি, এবং কীভাবে নিজের খামারে খুব সহজে জৈব সার তৈরি করা যায়।
2.জৈব সার কী?
জৈব সার হলো প্রাণী ও উদ্ভিদের পচন থেকে তৈরি এক ধরনের প্রাকৃতিক সার। এতে নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়ামসহ নানা ধরনের মাইক্রো-নিউট্রিয়েন্ট থাকে যা ফসলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
উদাহরণ:
i)গোবর সার
ii)কম্পোস্ট সার
iii)ভার্মি কম্পোস্ট (কেঁচো সার)
iv)খৈল
v)শাক-সবজির পচা অবশেষ
3.কেন জৈব সার ব্যবহার করবেন?
কারণ জৈব সার মাটির গঠন ও অণুজীবের ভারসাম্য ঠিক রাখে, ফসলের পুষ্টিগুণ বাড়ায়, রাসায়নিক সারের চেয়ে ফসলে ভিটামিন ও মিনারেল বেশি থাকে, পরিবেশবান্ধব, পানি দূষণ ও মাটি দূষণ প্রতিরোধ করে, স্বল্প খরচে উৎপাদন নিজের গবাদি পশু বা ফসলের অবশেষ থেকেই বানানো সম্ভব |
4.সহজ পদ্ধতিতে জৈব সার তৈরি:
নিজের বাড়িতেই সহজে কম্পোস্ট সার তৈরি করতে পারেন। নিচে ধাপে ধাপে প্রক্রিয়াটি দেখানো হলো:
i)উপকরণ সংগ্রহ: গোবর, শুকনো পাতা, রান্নাঘরের সবজির খোসা, কাঠের গুঁড়া।
ii)স্তর তৈরি: একটি গর্ত বা ড্রামে প্রথমে শুকনো পাতা, তার ওপর গোবর, আবার সবজির খোসা — এভাবে স্তর দিন।
iii)পানি দেওয়া: প্রতিদিন সামান্য পানি দিন যাতে আর্দ্রতা বজায় থাকে।
iv)ওলট-পালট: প্রতি সপ্তাহে ১-২ বার মিশ্রণটি নাড়াচাড়া করুন।
v)প্রস্তুত: ৪০-৬০ দিনের মধ্যে কালো রঙের গুঁড়া সার তৈরি হয়ে যাবে।
টিপস: কেঁচো ব্যবহার করলে ৩০ দিনেই উন্নত মানের ভার্মি কম্পোস্ট পাওয়া যায়।
5.জৈব সার ব্যবহারের নিয়ম:
i)ধানের জমিতে প্রতি বিঘায় ৫০০-৭০০ কেজি গোবর সার ব্যবহার করা যায়।
ii)সবজি বাগানে গাছপ্রতি ১-২ কেজি জৈব সার প্রয়োগ করুন।
iii)বীজতলায় জৈব সার ও মাটি ১:১ অনুপাতে মিশিয়ে নিন।
6.উপসংহার:
আমরা যদি এক ইঞ্চি জমিতেও জৈব সার ব্যবহার করি, তাহলে দেশের মাটি বাঁচবে, ফসল ভালো হবে, আর কৃষকরাও লাভবান হবেন। আজই শুরু হোক জৈব কৃষির পথচলা।
কৃষিপথ সবসময় কৃষকের পাশে।